বগুড়ার শিবগঞ্জের রায়নগরে সামান্য ডাবের জন্য আপন ছোট ভাই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলেন বড় ভাই শহিদুল ইসলাম।
ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে
নিহতের নাম শাহিনুর রহমান (৪৫)। সে ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের পুত্র।
শনিবার বিকাল ৪টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ীর উঠানে লাশের অপেক্ষায় খাটুনি। পাশে ৩ সন্তানকে নিয়ে স্বামী হারানোর বেদনায় আহাজারি করছে স্ত্রী শাহানারা বেগম। নিহতের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকাল ৪টায় ঘাগুরদুয়ার পশ্চিম পাড়া গ্রামে ইসমাইল হোসেনের ৪ পুত্র। সবাই পাশাপাশি বাড়ীতে বসবাস করলেও ইসমাইলের ছোট পুত্র আব্দুল গফুর (৩০) একটু অদূরে বাড়ী করে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছেন। গফুরের বাড়ীর সীমানায় বড় আকৃতির একটি ডাব গাছ রয়েছে। মাঝে মাঝে ডাব গুলো গাছ থেকে চুরি হতো। এজন্য গফুরের ভাই ভিকটিম শাহিনুর রহমান ডাব গুলো দেখে রাখতে বলেন। গফুরের আরেক বড় ভাই শহিদুল ইসলাম (৬০) এর পুত্র কাউকে কিছু না জানিয়ে এ ডাব গাছ থেকে ডাব জোরপূর্বক পারতে আসেন। এসময় গফুরের কন্যা স্কুল পড়ুয়া তাসমিয়া খাতুন (১৪) তাদের ডাব পাড়ার কথা নিষেধ করলে, শহিদুলের পুত্র মেহেদী (২২) তাসফিয়া কে বেধরক মারপিট শুরু করে৷ এসময় স্কুল ছাত্রী তাসমিয়া তার বড় চাচা শাহিনুরকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানান। এসময় শাহিনুর তার বড় ভাই শহিদুল কে বিষয়টি অবগত করার জন্য তার কাছে যায়। এতে শহিদুলের সাথে শাহিনুরের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শহিদুল তার পিতা ইসমাইল হোসেন ও তার পুত্র মেহেদী হাসান (২২) মামুনুর রশীদ মামুন (২৮) ও শহিদুলের স্ত্রী মুক্তা বেগম শাহিনুর কে গাছের ডাল দিয়ে মারপিট শুরু করে এতে শাহিনুর মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় পিতা শাহিনুর কে বাঁচাতে পুত্র আজিজুল ইসলাম (২৩) এগিয়ে এলে তাকেও মারপিট করে গুরুত্বর আঘাত করা হয়। এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে ২ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের পুত্র আজিজুল ইসলাম জানান, জমিজমা সংক্রান্ত জেরে তার পিতাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। নিহত শাহিনুরের স্ত্রী শাহানারা বেগম ৫ জনের নামে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি বারবার আহাজারি করছেন।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রউফ বলেন, নিহতের সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
